Tuesday, August 3, 2010

Quicksand of Debt , Micro Finance and Indian Poor class

This is second part of :মাইক্রো ফিনান্স ও ভারতীয় দরিদ্রশ্রেণী Micro finance and Indian Poor class
read first part in this blog : http://mydiaryalbertashok.blogspot.com/2010/07/micro-finance-and-indian-poor-class.html

This article is written for people use Bengali language .

The topic is " Indian Poor class and Micro finance".
Self help group, Grameen Bank (GB) ,Community based financial systems (CBFS) , NGOs in micro-finance whatever their name may be they should change their policy for Poverty Alleviation. otherwise Poor will be at the mercy of suicide.
The article will be finished in three part, this is first part. I request people working for 'Demand and Dignity' a campaign launched by Amnesty International should read these three parts. Indian people -- those are in poor class and lower middle class are being trapped and ruined by the personal loan taken from local usurers with interest ranging 10% to 60% monthly, in market place, poor vegetable vendors /sellers take loans amounting Rs. 100/ to Rs. 500/ at 10% interest rate per day. Anyway, stop these private practices and give poor and weak people a constitutional legal support to fight these unlawful acts /cases and make poor people lives safe and secured.
--~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~--
This is a real story happened in 2008 to 2010, in Kolkata, Dumdum, under municipal area. Name of character is changed, due to unwanted problem and disquiet. A simple woman lost all her life and hope and disappeared in dark.

India has seen so many deaths being trapped in debt. This is main concern.

দেনার খপ্পরে -~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~-

লক্ষী দেবীর ছোট সংসার। এক ছেলে এক মেয়ে। ছেলে মেয়ে বড় হয়েছে। মেয়ে চাকরির জন্য চেস্টা করছে, বি. এ. পাশ। ছেলে স্কুল ফাইনাল দিয়েছে, ইলেভেনে ভর্তি হবে। লক্ষীর স্বামী একজায়গায় কাজ করত, টেনেটুনে সংসার চালায়। লক্ষীর কেবলি মনে হত সেলাই ফুড়াই করে সে যদি দুটো টাকা উপায় করতে পারে খুব ভাল হয়। সংসারে টাকার কত প্রয়োজন কে না জানে।

লক্ষী থাকে কলকাতা শহরের এক প্রান্তে। এখানে কত লোক কত কিছু করে খায়, উপায় করে, ভিন্‌ দেশীরা কলকাতায় উপায় করে দেশে টাকা পাঠায়। লক্ষী অবাক হয়, সে কলকাতায় থেকে উপায় করতে পারছেনা! তার জ়েদ চেপে যায়। সংসার সামাল দিতে হবে। লক্ষীর স্বামি বারণ করে। লক্ষী বায়না ধরে তার একটা সেলাই মেসিন চাই। লক্ষীর স্বামি জানে লক্ষীর বোধ বুদ্ধির দৌড়। একবার দূর্গা পূজার সময় পাড়ারই এক ছোট কাপড় ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কিছু বাচ্চাদের জামা কাপড় তুলে ছিল। ভেবেছিল ব্যবসায়ীকে ওর কাপড় বিক্রী করে দিলে লাভের একটা অংশ পাবে। কিন্তূ বাস্তবে সেই ব্যবসায়ী লক্ষীকে ঠকিয়ে দিয়েছিল। সেই থেকে লক্ষীর ঝোঁক কাপড় ব্যবসার দিকে। সে মেয়েদের সায়া, ব্লাউজ, অর্ন্তবাস ইত্যাদি পাইকারী দরে কিনে এনে নিজের পাড়ার মধ্যে বিক্রী করার ইছছে পোষণ করে রেখেছে। লক্ষীর স্বামী নিরীহ মানুষ, তার একদম ইছছে নেই লক্ষী কাজ করুক, ব্যবসা করুক। তাছাড়া লক্ষী পারবেনা। কারণ লক্ষী বোকা, তাকে সবাই ঠকাবে, ব্যবসা করতে গিয়ে অনেক লোকসান করে ফেলবে।

অনেক অশান্তির পর লক্ষীর স্বামি ইনস্টলমেন্টে একটা বাহারি সেলাই মেসিন কিনল। তাতে নানা সূচী কর্ম করা যায়। ভাবল ঘরের কাপড় চোপড় সেলাই করা যাবে আর লক্ষী যদি দুটো পয়সা উপায় করতে পারে ক্ষতি কি?

দেখা গেল লক্ষী শাড়ী পিকো করে, কারোর ছেঁড়া ফাটা জামা নিয়ে আসলে সেলাই করে দেয়, কিন্তূ পরিশ্রমই সার ১০টাকাও উপায় হয়না। লক্ষী বুঝতে পারল তাকে উপায় করতে হলে হাট থেকে সায়া, ব্লাউজ এনেও বিক্রী করতে হবে।

এমনি সময়ে সেলফ হেল্প গ্রুপ নামে এক মাইক্রো ফিনান্স সংস্থার আবির্ভাব, লক্ষীর এক প্রতিবেশী তাদের সাথে লক্ষীকে পরিচয় করিয়ে দিল। তারা লক্ষীকে নিয়ে একটা দল বানাল। নাম দিল রুপালী দল। ৪০ জন মহিলার একটা দল। মাইক্রো ফিনান্স সংস্থা প্রত্যেককে অল্প অল্প করে টাকা দিল। কেউ দুই হাজার কেউ তিন হাজার...। যার যেমন আবেদন তার থেকে কিছু কম, আর বলে দিল টাকা দেওয়া হল রুপালী দলকে। লক্ষীর বর অনিচ্ছা সত্বেও গ্যারান্টার হিসাবে সই দিল। নইলে ঘরে অশান্তি হবে। লক্ষী টাকা পেল তিন হাজার টাকা। মাইক্রো ফিনান্স সংস্থার সাথে চুক্তি হল রুপালী দল প্রতি সপ্তাহের একদিন করে তাদের কোন একজনের বাড়ীতে সাময়িক অফিস বসাবে সদস্যদের সবাইকে সেদিন উপস্থিত থাকতে হবে শুরু থেকে যতক্ষণ অফিস চলে। তিন থেকে পাঁচ ঘন্টা। সবাইকে ৪৮ টা কিস্তিতে ভাগ করা ঋণের টাকা দিয়ে যেতে হবে। কেউ কিস্তির টাকা দিতে ভুল করবেনা, কেউ সেটা করলে তাকে পরবর্তি সময়ে আর টাকা দেওয়া হবেনা। এবং সেইদিন বাকী সদস্যরা চাঁদা তুলে মাইক্রো ফিনান্স সংস্থার টাকা মিটিয়ে দিতে হবে। টাকা না পেলে মাইক্রো ফিনান্সের লোকেরা ফিরে যাবেনা, তারা যে মহিলা টাকা দিতে পারেনি তার বাড়ীতে বাকী ২৯ জন সদস্য নিয়ে চড়াও হবেন ও ঘর থেকে মূল্যবান সামগ্রী তুলে নিয়ে আসবেন। এই ব্যবস্থাতে দেখা যাচ্ছে মানুষের সম্মান বোধ বলে কিছু থাকেনা। সমাজ সেই মহিলাকে অবজ্ঞার চোখে দেখে।

টাকা পাওয়ার লোভে সব মহিলা বাচ্‌ বিচার না করেই যেকোন প্রস্তাবে রাজী। এখানেই ভাবতে হবে টাকার জন্য মানুষ কত বেপরোয়া, আর কি রকম টাকার সঙ্কটে আছে।

লক্ষী টাকা পেয়েই কিছু সায়া ব্লাউজ তুলল। তার খুব খুশী মন। সে ভাবছে সে স্ব-নির্ভর হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। এবার দু দশ টাকা নিজে উপায় করে সংসারের টুকিটাকি কিনতে পারবে, স্বামীর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবেনা। তার সখ-আহ্লাদের কত কিছু এতদিন কিনতে পারেনি। কারণ সে বুঝতে পারত স্বামীর পকেটে টাকা নেই, বললে কোত্থেকে দেবে? আজ সেই সঙ্কট থেকে মুক্তির দিন এসেছে। সে আর্থিক স্বাধীনতা পাবে। অনেক আনন্দ হয়েছিল। লক্ষীর বর লক্ষীর ঋণ গ্রহিতার বই দেখে খুশী হয়নি, সে লক্ষ্য করল মাইক্রো ফিনান্স ঋণ গ্রহীতা বইয়ে কিছু ভুল লিখেছে, তারা পৌরসভার অধীনে থাকে, লেখা আছে গ্রাম ও পঞ্চায়েত। এখানে গ্রাম কোথায় এটা কলকাতা। মেট্রোপলিটন শহর। লক্ষী বলল, আমার তাতে কি যায় আসে। ওরা আমাকে টাকা দিয়েছে ব্যবসা করার জন্য, তোমার থেকে তো দিতে পারলেনা, সুতরাং বড় বড় কথা তোমার মানায় না। লক্ষীর স্বামী চুপ হয়ে যায়। মনে মনে ভাবে তিন হাজার টাকায় ব্যবসা হয়না, হাত ধুতেই চলে যাবে। লক্ষী তবু শুনিয়ে দেয়, আমি টাকা নিয়েছি, আমি বুঝবো, শোধ করবো আমিই, তোমার চিন্তা করতে হবেনা।

খুশী খুশী ভাব নিয়ে পরের মঙ্গলবার ভোর পাঁচটায় লক্ষী হাটে চলে গেল, ঘুরে ঘুরে সায়া, ব্লাউজ, নাইটি ইত্যাদি কিনল, কয়েকটা বিছানার চাদরও কিনল। বাড়ী ফিরল যেন রাজ্য জয় করে। লক্ষীর স্বামি দেখল কিছু বললনা।

কাজ কর্ম সেরে বিকেল বেলায় লক্ষী পাড়াতে প্রতিবেশীর সবাইকে জানিয়ে দিল সে কাপড়ের ব্যবসায় নেমেছে। লক্ষী স্বল্প লাভ রেখে সব কিছুই বিক্রী করে দিতে পারল। নগদ টাকা পেল, উৎসাহ তার গেল বেড়ে। মনে তার স্বপ্ন জাগছে। ব্যবসার স্বপ্ন। রুপালী দলের কিস্তিগুলি প্রথম প্রথম ভালই দিয়ে যাচ্ছিল। মুখে তার আনন্দের উচ্ছাস, সবার সাথেই গায়ে পরে গল্প করছে, তার ছোট্ট ব্যবসার উৎসাহ, উদ্দীপনার ও সার্থকতার গল্প বলছে।,। সবাই তার প্রসংশা করছে।

কিছুদিনের মধ্যেই দেখা গেল অনেকেই মাসের শেষ দেখিয়ে পয়সা পরে দেবে বলে বাকীতে কাপড় চোপড় নিতে লাগল। লক্ষী ভাবল বাকী না দিলে মাল ঘরে পড়ে থাকবে, তার চাইতে সে বাকীতে মাল বিক্রী করলে মাসের প্রথমে টাকাটা উঠে আসবে। আর বাকী ছাড়া পাড়ায় বিক্রী করা যাবেনা।তার তো দোকান নেই যে দোকানে বসে বিক্রী করবে। তবু সে নানা জায়গায়, আত্মীয়স্বজনের বাড়ীতে, তাদের বন্ধুবান্ধবের বাড়ীতে মাল নিয়ে ছুটে ছুটে ব্যবসাটা করার চেস্টা করল। কিন্তূ সব জায়গার একটা অভিজ্ঞতা, বাকী দিতে হবে। এই করে ছয় মাসের মাথায় লক্ষী দেখল তার পুঁজিটা আর নেই। মাল তুলতে পারছেনা। রুপালী দলের সাপ্তাহিক কিস্তি দিতে পারছেনা। সে যাদের মাল দিয়েছিল তাদের চাপ দিয়েও টাকা তুলতে পারছেনা। প্রতিবেশীর কাছ থেকে ধার করে রুপালী দলেরকিস্তি দিতে হচ্ছে। দলের বাকী সদস্যরা লক্ষীর উপর বিরক্ত। প্রত্যেকবার লক্ষী কিছু না কিছু টাকা কম আনে বাকীদের বলে ধার চেয়ে টাকা মেটায়। লক্ষী এসব কথা স্বামীকে বলেনা। বললে তাকে ব্যবসা থেকে নিরুৎসাহ করবে ।লক্ষী তা চায়না, সে ব্যবসা করবেই। তার বন্ধুরা বলল এই অল্প টাকায় ব্যবসা হয়? লক্ষীর বিশ্বাস সে পরেরবার বেশী টাকা নেবে মাইক্রো ফিনান্স থেকে। দেখতে দেখতে সে প্রথমবারের পুরো টাকা মিটিয়ে দিল, দ্বিতীয়বার আবার টাকা তুলল সাত হাজার। আগেরবারের চেয়ে দ্বিগুণ। আবার নতুন উদ্যম। বাকী অনেক টাকা তুলা সম্ভব হলনা। অনেক দূরে দূরে গিয়ে যাদের মাল দিয়েছিল বিশ পঞ্চাশ টাকা করে বাকী ছিল তাদের অনেকেই ভাড়াটিয়া, বাড়ী পালটে কোথায় গেছে সে খোঁজ পেলনা। লক্ষী স্কুল ফাইনাল ফেল করে ছিল, লিখতে পড়তে জানে, কিন্তূ প্রতিদিনকার হিসাব লিখতে পারেনা, সে ভাবে তার মনে থাকবে। দু একটা কখনো লিখে, কিন্তূ বেশীরভাগ হিসাব সে ভাবে মাথায় রাখবে, লেখালেখিটাকে সে ঝামেলা মনে করে। লক্ষীর স্বামী একদিন বলল ব্যবসা করছো খাতাকলমে করছোতো? লক্ষী স্বামীকে এখন পাত্তা দেয়না। স্বামী তাকে জ্ঞান দেয় শুধু। কোনদিন তো দুটো টাকা সখ আহ্লাদের জন্য দেয়নি, জ্ঞান দেওয়ার বেলায় উস্তাদ। অমন জ্ঞান সে নেবে কেন? লক্ষীর স্বামী লক্ষীকে মুর্খ ও মুখরা দুটোই ভাবে। সেও আগ্রহ দেখায়না। তার ভয় একটাই। ব্যবসা করতে গিয়ে যদি ডুবে যায় তার বৌ বা বাজারে যদি ঋণ হয়ে যায়! এ দায় সে সামলাতে পারবেতো?

আবার ছয়মাস পর লক্ষীর টাকার সঙ্কট। পুঁজি নেই। ঘরে টুকটাক কিনতে হচ্ছে বাজার। প্রয়োজনে, অপ্রয়োজন্‌ নিজের সখে। কিছু না কিনতে না পারলে মনে হয় সমস্ত কিছুই অনর্থক। কেনার বা খরচের মধ্যে নিজের স্বাধীন অস্তিত্বের সন্ধান বোধগম্য হয়। লক্ষী আনন্দ পায়। এমনি সময়ে আরো দুটি মাইক্রো ফিনান্স সংস্থা পাড়াতে এল। সবাই নাকি মহিলাদের স্বনির্ভর করে তুলবে। দেশে কোন দুঃখ থাকবেনা। এদের গালভরা নাম, এদের সবাইকে এন. জি. ও. বলে। আর মহিলাদের রুপালী দলকে সেলফ হেল্প গ্রুপ বলে। লক্ষী পাড়ার আরো মহিলদের সাথে মিলে সেই সব দলগুলি থেকেও লোন নিল ব্যবসার জন্য। বাড়ীতে স্বামীকে বুঝিয়ে বাঝিয়ে সইও আদায় করল। বলল তোমাকে তো টাকা দিতে হবেনা, আমার কিস্তি আমিই দিই। তুমি শুধু একটা সই দিচ্ছো। লক্ষীর স্বামী চুপ হয়ে যায়। শুধু একবার জিজ্ঞেস করেছিল কিস্তির টাকা অনেক বড় অংকের হয়ে যাচ্ছে সামাল দিতে পারবে? তাতে লক্ষী মুখটা ঝামটা দিয়ে ঝগড়া করে স্বামিকে থামিয়ে দিয়েছিল।

লক্ষীর পুঁজি এখন ২৫০০০ টাকা প্রচুর কাপড় সায়া, ব্লাউজ তুলেছে। আরো উদ্যম। আবার এর ছয়মাস পর পুরো পুঁজি হাওয়া। বাকীতে অনেকেই যারা কাপড়চোপর কিনেছিল, কথা দিয়েছিল মাসে মাসে দিয়ে দেবে। এখন টাকা দিচ্ছেনা, টাকার তাগাদায় গেলেই বলে লক্ষী নতুন কিছু তুললে?। তোমার আগের টাকা পরের মাসে দিয়ে দেব, ইত্যাদি ইত্যাদি। অনেকে রাস্তায় দেখা হওয়া মাত্র আড়াল হতে চায়, নয়তো অন্য প্রসঙ্গ তুলে। লক্ষী সব বুঝে, কিন্তূ কি করবে বুঝে উঠতে পারেনা। কি ভাবে ব্যবসা চালাবে।

এবার প্রতিমাসে চারটে কিস্তি দিতে তার দুহাজার করে টাকা লাগে। ব্যবসা ফেল। টাকার সন্ধানে তার ঘুম হয়না। লোকের পিছনে তাগাদা দিতে দিতে সে ক্লান্ত। আড়ালে আড়ালে কাঁদে। কিস্তি দিতে ভুল হলে তার আর কোন আশা নেই স্ব-নির্ভর হওয়ার। পরেরবার সে আর টাকা পাবেনা। স্বামীর কাছে বলতে পারছেনা। স্বামী কোথা থেকে দেবে? উলটো বকা ঝকা দেবে, ঘরে অশান্তি হবে। সে পাড়াতে লোকের কাছে ধার চাইলো, কেঊ কেঊ দয়া পরবশতঃ তাকে টাকা দিল, লক্ষী তাদের বলেছে দু-একদিনের মধ্যে ফেরত দিয়ে দেবে। প্রতিবেশীকে বুঝিয়েছে অনেক লোক বাকীতে মাল নিয়েছে সেই টাকাটা পেলেই ফেরত দিতে তার অসুবিধা হবেনা। লোক বিশ্বাস করেছে। ধার চেয়ে লক্ষী মাইক্রো ফিনান্সের টাকা মিটিয়েছে। এই ভাবে লক্ষী অচিরেই অনেক নগদ টাকা ধার হয়ে গেল প্রতিবেশীরদের কাছে। কাপড়ের টাকা তাগাদা দিয়ে যা অল্প অল্প পাচ্ছিল তা নানা ভাবে খরচ হয়ে গেল। লক্ষী এখন দেওলিয়া। সেলফ হেল্প গ্রুপের থেকে নেওয়া টাকা কোথায় উড়ে গেছে। লক্ষীর কাছে কোন হিসাব নেই। কিছু সে মনে করতে পারছে সংসারে খরচ হয়েছে, কিছু টাকা লোকে আত্মসাৎ করেছে। লক্ষী দেখেছে আর দুটো মাস কাটাতে পারলে মাইক্রো ফিনান্স থেকে সে আবার লোন পাবে। এবার আর বড় অংক সে দাবি করবে। কিন্ত এখন কি করে চলবে? তার উপর প্রতিবেশীরা চাপ দিচ্ছে তাদের টাকা ফিরিয়ে দিতে। লক্ষী খোঁজ পেল দশ শতাংশ থেকে পঞ্চাশ শতাংশ হারে সুদে পাড়াতেই কিছু মানূষ টাকার ব্যবসা করে। তাদের লাইসেন্স আছে কি নেই এই প্রশ্ন কেউ কোনদিন তুলেনি। বিপদে পড়লে মানুষ তাদের শরণাপন্ন হয়। তারা বিপদ বুঝে মানুষের থেকে কত শতাংশ সুদ নিতে পারে তা স্থির করে খাতায় সই সাবুদ রেখে বা কেউ কেউ স্ট্যাম্প পেপারে আসল টাকাটা লিখে কবে ফেরত দেবে ইত্যাদি লিখে নিশ্চিত হয়ে টাকা দেয়। লক্ষী তাদের কবলে পড়ল। সে তাদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে প্রতিবেশী যাদের টাকা না দিলে অসুবিধা হবে তাদের কয়েক জনের টাকা মেটাল আর মাইক্রো ফিনান্সের দুই তিন কিস্তির টাকা মেটাল। এইকথা তার স্বামী জানেনা। লক্ষীর এখন দেনার দায়। টাকার চিন্তায় তার ঘুম আসেনা। চড়া সুদে সে দশ হাজার টাকা এনেছে। মাস ঘুরতেই দশহাজার টাকার সুদ এক হাজার টাকার জন্য সুদ ওয়ালী লক্ষীকে চাপ দিল। লক্ষী এখন পাগল প্রায় সে এখন দেনার চক্করে পড়েছে। দুতিন মাসের মধ্যে লক্ষীকে চড়াসুদে আরো দশ দশ করে কুড়ি হাজার টাকা অন্য সুদ ওয়ালীদের কাছ থেকে নিল। সেই টাকা দিয়ে সুদ আর কিস্তির টাকা কয়েকটা মেটাল। পাড়ায় লক্ষী প্রায় ভিখারী, ৫০টাকা থেকে ৫০০টাকা ঋণ অনেকের কাছ হাত পেতে নিয়েছে। পাড়ার লোক জানেনা লক্ষীর দেনার অংক।

এইভাবে লক্ষী বছর খানেকের মধ্যে লাখ টাকা দেনা হয়ে গেল। এতটুকু অব্দি লক্ষীর স্বামী জানেনা। লক্ষী এখন আতংকে দিন কাটায়, পাওনাদার সবাইকে টাকা নেওয়ার সময় বলেছে, টাকা আমি মেটাব আমার বাড়ীতে যেন না জানে। এবার পাওনাদাররা জানেনা লক্ষী কত টাকা বাজারে দেনা। তাহলে হয়তো অনেকেই লক্ষীকে টাকা দিতনা।

লক্ষীর কাছে টাকা না পেয়ে পাওনাদাররা লক্ষীর নামে পাড়াতে আলোচনা ও মুখরোচক গল্প বানাতে লাগলো। ফলতঃ অনেক পাওনাদার জানতে পারল লক্ষী প্রচুর টাকা দেনা গ্রস্ত। তারা স্থির করল তারা লক্ষীর বাড়ীতে যাবে। এবং একদিন যথারীতি তারা বাড়ীতে এসে লক্ষীর বরকে সরাসরি বলল আপনার বৌ আমাদের কাছ থেকে তাকা নিয়েছে আমাদের টাকা ফেরত দিন। লক্ষীর বর আকাশ থেকে পড়ল। লক্ষীর বর সোজা বলল আপনারা আমাকে বলে টাকা দিয়েছন? আমার কাছে তখন আসলে আমি পরিষ্কার না করে দিতাম, আমাকে আপনারা এখন বিপদে ফেলছেন কেন? লক্ষীর স্বামীর কথায় যুক্তি আছে। কারণ সে কারোর কাছে জীবনে ক্ষমতার বাইরে ধার দেনা করেনি। পাওনাদাররা অনর্থক চিৎকার চেঁচামেচি করে শাসিয়ে চলে গেল

এরপর ঘরে রীতিমতো অশান্তি, লক্ষী কোনকিছুর হিসাব দিতে পারছেনা। কার কার কাছ থেকে টাকা এনেছে, কত এনেছে, ব্যবসায় কার কার কাছে সে টাকা পায় ইত্যাদি কোন লেখাঝোঁকা নেই।

লক্ষীর বর ও লক্ষীর মধ্যে ঘরে কথাবার্তা বন্ধ। ঘরে চরম অশান্তি। ছেলেমেয়ের কথা কেউ ভাবতে পারছেনা। খাওয়া দাওয়া বন্ধ। দুজনেই আলাদা করে ভাবছে এই বিশাল টাকার সুদ প্রতিমাসে কুড়িহাজার। তা চক্র হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। লক্ষীর স্বামঈ ভাবছে তার জীবনে দু পয়সা সঞ্চয় করতে পারেনি এই বিশাল দেনা কি করে মেটাবে, তার চেয়ে সে সুইসাইড করবে, এটা অনেক সহজ। লক্ষী ভাবছে, তার জন্য তার স্বামি অপদস্ত হচ্ছে সে সুইসাইড করলে তার পরিবার ঋণ মূক্ত হবে। এর মধ্যে কেউ কেউ পাওনাদারদের মধ্যে পুলিশে জানিয়েছে। পুলিশ তাদের ডাকিয়ে টাকা অবিলম্বে মেটাতে বলেছে নইলে কড়া পদক্ষেপ নেবে। পাড়াতে লক্ষীরা মুখ দেখাতে পারছেনা। চিটিংবাজ ও আজেবাজে গালাগালি খাচ্ছে। মরণ ছাড়া তাদের আর অন্য পথ দেখছেনা।

আমি জানিনা এই পরিবারের পরিনতি কি হবে। লক্ষীর গল্প আমার এখানেই শেষ।

-~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~-
The third part will be posted soon

No comments: